আলি ইমরান ১-২৯

পৃষ্ঠা নং-১৬৯

করেছে, তারা সবাই মুসলমান ও মুসলিম নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য ছিল এবং তাদের ধর্মও ছিল ইসলাম। এ অর্থের দিকে লক্ষ্য করেই হযরত নূহ (আঃ) বলেনঃ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ  অর্থাৎ, আমি ‘মুসলিম’ হওয়ার জন্যে আদিষ্ট হয়েছি। -(সূরা ইউনুস) এ কারণেই হযরত ইবরাহীম (আঃ) নিজেকে ও নিজ উম্মতকে ‘উম্মতে মুসলিমা’ বলেছিলেনঃ

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ

          হযরত ঈসা (আঃ)-এর সহচরগণ এ অর্থের প্রতি লক্ষ্য করেই সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলঃ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ‘সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম’।

          মোটকথা এই যে, প্রত্যেক পয়গম্বরের আমলে তাঁর আনীত দ্বীনই ছিল দ্বীনে ইসলাম এবং আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য। পরে এগুলো একের পর এক রহিত হয়েছে এবং পরিশেষে দ্বীনে-মুহাম্মদীই ‘ইসলাম’ নামে অভিহিত হয়েছে- যা কেয়ামত পর্যন্ত কায়েম থাকবে। যদি ইসলামের দ্বিতীয় অর্থ নেয়া হয় অর্থাৎ, মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আনীত ধর্ম, তবে আয়াতের অর্থ হবে এই যে, এ যুগে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যশীল ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য। পূর্ববর্তী দ্বীনগুলোকেও তাদের সময়ে ইসলাম বলা হলেও এখন তা রহিত হয়ে গেছে। অতএব উভয় অবস্থাতে আয়াতের প্রকৃত অর্থ একই দাঁড়ায়।

          তাই কুরআনের সম্বোধিত উম্মতের সামনে ইসলামের যে কোন অর্থই নেয়া হোক না কেন, সারমর্ম হবে এই যে, রসূলের (সাঃ) আবির্ভাবের পর কুরআন ও তাঁর শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্মই ইসলাম নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য এবং এধর্মই আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য-অন্য কোন ধর্ম নয়। এ বিষয়বস্তুটি কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বিভিন্ন শিরোনামে বিধৃত হয়েছে।

ইসলামেই মুক্তি নিহিতঃ আজকাল ইসলামের উদারতার নামে কুফর ও ইসলামকে এক করার চেষ্টা করা হয় এবং বলা হয় যে, সৎকর্ম সম্পাদন করলে ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে যে কোন ধর্মাবলম্বীই মুক্তি পাবে-সে ইহুদী, খ্রীষ্টান, অথবা মূর্তিপূজারী যাই হোক। আলোচ্য আয়াত এ উদ্ভট মতবাদের মূলোৎপাটন করে দিয়েছে। প্রকৃত প্রস্তাবে এভাবে ইসলামের মূলনীতি বিধ্বস্ত করা হয়। কারণ, এর সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, ইসলামের বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। এটা একটা কাল্পনিক বিষয়, যা কুফরের পোশাকেও সুন্দর মানায়। কুরআন মাজীদের অসংখ্য আয়াত পরিষ্কার বলে দিয়েছে যে, আলো ও অন্ধকার যেরূপ এক হতে পারে না, তদ্রুপ অবাধ্যতা ও আনুগত্য উভয়টি আল্লাহ্‌র কাছে পছন্দনীয় হতে পারে না। যে ব্যক্তি ইসলামের কোন একটি মূলনীতি অস্বীকার করে, সে নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিদ্রোহী ও পয়গম্বরগণের শত্রু, প্রচলিত অর্থে সৎকর্ম বা নেক আমল ও প্রথাগত চরিত্রে সে যতই সুন্দর হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না। সর্বপ্রথম আল্লাহ্‌ তাআলা ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের উপরই পরকালের মুক্তি নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি এ থেকে বঞ্চিত, তার কোন কর্ম ধর্তব্য নয়। কুরআনে এমন লোকদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে। فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন আমি তাদের কোন আমল ওজন করব না।

          পরিশেষে বলা হয়েছেঃ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

          -অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তাআলার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌ দ্রুত তার হিসাব গ্রহণ করবেন। মৃত্যুর পর প্রথমতঃ কবর তথা বরযখ-জগতে পরকালের পথে প্রথম পরীক্ষা নেয়া হবে। এরপর বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের সময়ই সব বিরোধের স্বরূপ ফুটে উঠবে। মিথ্যাপন্থীরা তাদের স্বরূপ জানতে পারবে এবং শাস্তিও আরম্ভ হয়ে যাবে।