আলি ইমরান ৬৩-৯১

পৃষ্ঠা নং-১৮২

থেকে এরূপ বোঝা উচিত নয় যে, তাঁরা সত্যের স্বীকারোক্তি না করলে অথবা তাঁদের জানা না থাকলে অবিশ্বাস করা বৈধ হবে। কারণ, কুফরী তথা অবিশ্বাস এমনিতেই একটি মন্দ কাজ। এটা সর্বাবস্থায় অবৈধ। তবে স্বীকারোক্তির পর কুফরি করলে তা অধিকতর তিরষ্কার ও ধিক্কারের যোগ্য।

يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ لِمَ تَلۡبِسُونَ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُونَ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٧١

৭১. হে আহলে কিতাবগণ, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে সংমিশ্রণ করছ এবং সত্যকে গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জান।

وَقَالَت طَّآئِفَةٞ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ ءَامِنُواْ بِٱلَّذِيٓ أُنزِلَ عَلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَجۡهَ ٱلنَّهَارِ وَٱكۡفُرُوٓاْ ءَاخِرَهُۥ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ٧٢

৭২. আর আহলে-কিতাবগণের একদল বললো, মুসলমানগণের উপর যা কিছু অবর্তীণ হয়েছে তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর দিনের শেষ ভাগে অস্বীকার ক র, হয়তো তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

وَلَا تُؤۡمِنُوٓاْ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمۡ قُلۡ إِنَّ ٱلۡهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُؤۡتَىٰٓ أَحَدٞ مِّثۡلَ مَآ أُوتِيتُمۡ أَوۡ يُحَآجُّوكُمۡ عِندَ رَبِّكُمۡۗ قُلۡ إِنَّ ٱلۡفَضۡلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ٧٣

৭৩. যারা তোমাদের ধর্মমতে চলবে, তাদের ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করবে না। বলে দিন নিঃসন্দেহে হেদায়েত সেটাই, যে হেদায়েত আল্লাহ করেন। আর এসব কিছু এ জন্যে যে, তোমরা যা লাভ করেছিলে তা অন্য কেউ কেন প্রাপ্ত হবে, কিংবা তোমাদের পালনকর্তার সামনে তোমাদের উপর তারা কেন প্রবল হয়ে যাবে! বলে দিন, মর্যাদা আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।

يَخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِهِۦ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ ٧٤

৭৪. তিনি যাকে ইচ্ছা নিজের বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

۞وَمِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ مَنۡ إِن تَأۡمَنۡهُ بِقِنطَارٖ يُؤَدِّهِۦٓ إِلَيۡكَ وَمِنۡهُم مَّنۡ إِن تَأۡمَنۡهُ بِدِينَارٖ لَّا يُؤَدِّهِۦٓ إِلَيۡكَ إِلَّا مَا دُمۡتَ عَلَيۡهِ قَآئِمٗاۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُواْ لَيۡسَ عَلَيۡنَا فِي ٱلۡأُمِّيِّ‍ۧنَ سَبِيلٞ وَيَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٧٥

৭৫. কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন-সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তোদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দীনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না-যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মীদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে।

بَلَىٰۚ مَنۡ أَوۡفَىٰ بِعَهۡدِهِۦ وَٱتَّقَىٰ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَّقِينَ ٧٦

৭৬. যে লোক নিজ প্রতিজ্ঞা পূর্ন করবে এং পরহেজগার হবে, অবশ্যই আল্লাহ পরহেজগারদেরকে ভালবাসেন।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشۡتَرُونَ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ وَأَيۡمَٰنِهِمۡ ثَمَنٗا قَلِيلًا أُوْلَٰٓئِكَ لَا خَلَٰقَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيۡهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ ٧٧

৭৭. যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কেন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

আনুসাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ

অমুসলমানের উত্তম গুণাবলীর প্রশংসাঃ وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ এ আয়াতে কিছু সংখ্যক লোকের আমানতে বিশ্বস্ত হওয়ার কারণে প্রশংসা করা হয়েছে। আয়াতে কিছু সংখ্যক লোক বলে যদি ঐসব আহলে-কিতাবকে বোঝানো হয়ে থাকে, যারা ইসলাম গ্রহন করেছিল, তবে এ প্রশংসায় কোন জটিলতা নেই। কিন্তু যদি সাধারন আহলে-কিতাব বোঝানো হয়ে থাকে, যারা অ-মুসলিম, তবে প্রশ্ন হয় যে, কাফেরের কোন আমলই গ্রহনযোগ্য নয়; এমতাবস্থায় তাঁর প্রশংসার অর্থ কি?

উত্তর এই যে, প্রশংসা করলেই আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহনযোগ্য হওয়া বোঝায় না। এখানে একথা বলা উদ্দেশ্য যে, ভালো কাজ কাফেরের হলেও তা এক পর্যায়ে ভালোই। সে এর উপকার দুনিয়াতে সুখ্যাতির আকারে এবং আখেরাতে শাস্তি হ্রাসের আকারে পাবে।

এ বর্ণনায় একথাও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসলামে বিদ্বেষ ও সংকীর্নতা নেই, বরং সে খোলা মনে প্রতিপক্ষের সদগুনাবলীরও প্রশংসা করে।

إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِمًا- এ আয়াত দ্বারা ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) প্রমান করেছেন যে, ঋনদাতা ব্যাক্তির প্রাপ্য পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাকে তাগাদা করতে থাকার অধিকার তার রয়েছে।– (কুরতুবী, ৪র্থ খন্ড)

অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে সতর্কবাণীঃ উভয় পক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয় এবং যা পূর্ণ করা উভয় পক্ষের জন্যই জরুরী, এমন বিষয়কে অস্বীকার বলা হয়। ওয়াদা শুধু এক পক্ষ থেকে হয়। অতএব, অঙ্গীকার ব্যাপক ও ওয়াদা সীমিত।

কুরআন ও সুন্নাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। উপরোল্লেখিত ৭৭ তম আয়াতেও অস্বীকার ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি সতর্ক বাণী উচ্চারিত হয়েছেঃ

(১) জান্নাতের নেয়ামতসমূহে তাঁর কোন অংশ নেই। এক হাদীসে রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথ দ্বারা কোন মুসলমানের অধিকার নষ্ট করে, সে নিজের জন্যে দোযখের শাস্তিকে অপরিহার্য্য করে নেয়। বর্ণনাকারী আরয করলেনঃ যদি বিষয়টি সামান্য হয় তবুও কি দোযখ অপরিহার্য্য হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ তা গাছের একটি ভাঙ্গা ডালই হোক না কেন।– (মুসলিম)

(২) আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর সাথে অনুরূপসূচক কথা বলবেন না।

(৩) কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না।-