আল-বাকারা ৭৭-৮৮

أَوَ لَا يَعۡلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعۡلِنُونَ ٧٧

৭৭.তারা কি এতটুকুও জানে না যে, আল্লাহ্‌ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে?

وَمِنۡهُمۡ أُمِّيُّونَ لَا يَعۡلَمُونَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّآ أَمَانِيَّ وَإِنۡ هُمۡ إِلَّا يَظُنُّونَ ٧٨

৭৮.তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহ্‌র গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।

فَوَيۡلٞ لِّلَّذِينَ يَكۡتُبُونَ ٱلۡكِتَٰبَ بِأَيۡدِيهِمۡ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنۡ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشۡتَرُواْ بِهِۦ ثَمَنٗا قَلِيلٗاۖ فَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتۡ أَيۡدِيهِمۡ وَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا يَكۡسِبُونَ ٧٩

৭৯.অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।

وَقَالُواْ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامٗا مَّعۡدُودَةٗۚ قُلۡ أَتَّخَذۡتُمۡ عِندَ ٱللَّهِ عَهۡدٗا فَلَن يُخۡلِفَ ٱللَّهُ عَهۡدَهُۥٓۖ أَمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ ٨٠

৮০.তারা বলেঃ আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহ্‌র কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ্‌ কখনও তার খেলাফ করবেন না-না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহ্‌র সাথে জুড়ে দিচ্ছ।

بَلَىٰۚ مَن كَسَبَ سَيِّئَةٗ وَأَحَٰطَتۡ بِهِۦ خَطِيٓ‍َٔتُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٨١

৮১.হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٨٢

৮২.পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ لَا تَعۡبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَانٗا وَذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسۡنٗا وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ ثُمَّ تَوَلَّيۡتُمۡ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنكُمۡ وَأَنتُم مُّعۡرِضُونَ ٨٣

৮৩.যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।

আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ

জনগণের সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রেখে ভুল বিষয় পরিবেশন করলে তারা কিছু নগদ অর্থ-কড়িও পেয়ে যেত এবং মান-সম্মানও বজায় থাকত। এ কারণে তারা তাউরাতে শাব্দিক ও মর্মগত উভয় প্রকার পরিবর্তন করারই চেষ্টা করত। উল্লেখিত আয়াতে এ বিষয়ের উপরই কঠোর হুসিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে।

জ্ঞাতব্যঃ তাফসীরবিদগণ ইহুদীদের এ বক্তব্যের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হল এই যে, ঈমানদার ব্যক্তি গোনাহগার হলে গোনাহ্‌র পরিমাণে দোযখ ভোগ করবে। কিন্তু ঈমানের ফলস্বরূপ চিরকাল দোযখে থাকবে না। কিছুকাল পরই তা থেকে মুক্তি পাবে।

অতএব, ইহুদীদের দাবীর সারমর্ম এই যে, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী হযরত মূসা (‘আলাইহিচ্ছালাম)-এর প্রচারিত ধর্ম রহিত হয়নি। কাজেই তারা ঈমানদারঃ ‘ঈসা (‘আলাইহিচ্ছালাম) ও হুযূরে আকরাম (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার পরও তারা কাফের নয়। সুতরাং যদি কোন পাপের কারণে তারা দোযখে চলেও যায়, কিন্তু কিছু দিন পরই মুক্তি পাবে। বলাবাহুল্য, এ দাবীটি একটি অসত্যের উপর অসত্যের ভিত্তি বৈ নয়। কেননা, মূসা (‘আলাইহিচ্ছালাম) কর্তৃক প্রচারিত ধর্ম চিরকালের জন্য- এরূপ দাবীই অসত্য। অতএব, ‘ঈসা (‘আলাইহিচ্ছালাম) ও হুযূর আকরাম (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার কারণে ইহুদীরা কাফের। কাফেরও কিছুদিন পর দোযখ থেকে মুক্তি পাবে, এমন কথা কোন আসমানী গ্রন্থে নেই- যা আলোচ্য আয়াতে অঙ্গীকার শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, ইহুদীদের দাবীটি যুক্তিহীন, বরং যুক্তিবিরুদ্ধ।

গোনাহ্‌র দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া শুধু কাফেরদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়ে থাকে। কারণ, কুফরের কারণে কোন সৎকর্মই গ্রহণযোগ্য থাকে না। কুফরের পূর্ব কিছু সৎকর্ম করে থাকলেও তা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই কাফেরদের মধ্যে আপাদমস্তক গোনাহ ছাড়া আর কিছুই কল্পনা করা যায় না। ঈমানদারদের অবস্থা কিন্তু তা নয়। প্রথমতঃ তাদের ঈমানই একটি বিরাট সৎকর্ম। দ্বিতীয়তঃ অন্যান্য নেক ‘‘আমল তাদের ‘‘আমলনামায় লেখা হয়। সে জন্য ঈমানদার সৎকর্মের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারে না। সুতরাং উল্লেখিত বেষ্টনী তাদের বেলায় অবান্তর।

জ্ঞাতব্যঃ ‘অল্প কয়েকজন’ অর্থাৎ, তারাই যারা তাউরাতের পুরোপুরি অনুসরণ করত, তাউরাত রহিত হওয়ার পূর্বে তারা মূসা (‘আলাইহিচ্ছালাম) প্রবর্তিত শরী‘আতের অনুসারী ছিল এবং তাউরাত রহিত হওয়ার পর ইসলামী শরী‘আতের অনুসারী হয়ে যায়। আয়াত দৃষ্টে বোঝা যায় যে, একত্ববাদে ঈমান এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এতীম বালক-বালিকা ও দীন-দরিদ্রদের সেবাযত্ন করা, মানুষের সাথে নম্রভাবে কথাবার্তা বলা,-